মিউজিয়াম কাকে বলে? ইতিহাস লিখনে মিউজিয়ামের গুরুত্ব লেখো
জাদুঘর কাকে বলে? অতীত পুনর্গঠনে জাদুঘরের ভূমিকা আলোচনা করো। অথবা, জাদুঘর কী? জাদুঘরের উদ্দেশ্য ও কার্যাবলি আলোচনা করো।
বালুরঘাট কলেজের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাজেশন প্রজেক্ট
⭐মিউজিয়াম কাকে বলে বা কি ⭐
মিউজিয়াম। 'মিউজিয়াম' (MUSEUM)। 'মিউজিয়াম' শব্দটির মূল উৎস হলো প্রাচীন গ্রীক শব্দ Mouseion (মিউসিয়ান)। যার অর্থ হলো গ্রীক পুরানের শিল্পকলার পৃষ্ঠপোষক মিউসদের মন্দির। এই ধরনের মন্দির গুলিকে কেন্দ্র করে প্রাচীন গ্রীসে পাঠাগার, প্রাচীন শিল্পকলা প্রভৃতির সংগ্রহশালা গড়ে উঠত।
ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অফ মিউজিয়াম-এর মতে জাদুঘর হলো একটি অলাভজনক, জনসাধারণের কাছে উন্মুক্ত এবং স্থায়ী সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান যা শিক্ষালাভ, জ্ঞানচর্চা ও আনন্দলাভের উদ্দেশ্যে মানব ঐতিহ্যের স্পর্শযোগ্য ও স্পর্শ অযোগ্য জিনিসপত্র সংগ্রহ করে, সংরক্ষণ করে প্রদর্শন করে এবং সেগুলিয়ে গবেষনা করে।
উদাহরণ ব্রিটিশ মিউজিয়াম। এখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শিল্পকলা। প্রত্নতত্ত্ব ইতিহাস, বিজ্ঞান প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয়ের নিদর্শন। এখানে পৃথক পৃথক ঘরে পৃথক পৃথক বিষয়ের নিদর্শন প্রদশনের ব্যবস্থা রয়েছে।
► মিউজিয়ামগুলিতে উদ্দেশ্য, কার্যাবলি ও গুরুত্ব: বিশেষ বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অতীত পুনর্গঠনে (ইতিহাস রচনায়) এই জাদুঘরগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জাদুঘরের প্রথম উদ্দেশ্য ও কার্যাবলি ব্যাখ্যা করলে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
◆ সংগ্রহ: মিউজিয়ামেপ্রথম উদ্দেশ্য ও কাজ হলো দুর্লভ ঐতিহাসিক নিদর্শন গুলি খুঁজে বের করা ও সংগ্রহ করা। হারিয়ে যাওয়া এই সব নিদর্শন ইতিহাস রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
► সংরক্ষন:-মিউজিয়াম গুলিতে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহাসিক উপাদান সংরক্ষিত থাকে। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রাচীন মুদ্রা, লিপি, শিল্পকর্ম, দুষ্প্রাপ্য বস্তু, বিজ্ঞান বিষয়ক বস্তু, অলংকার, চার্ট মডেল, প্রাচীনকালে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ ইত্যাদি। সংরক্ষিত এই উপকরণগুলি অতীত পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
✒️প্রতিকৃতি নির্মাণ: জাদুঘরগুলির একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো প্রতিকৃতি তৈরি। নিরাপত্তার কারণে অতি মূল্যবান ও দুষ্প্রাপ্য ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলির প্রদর্শন সম্ভব হয় না। জাদুঘর এগুলির মডেল তৈরি করে দর্শকের কৌতূহল মেটানোর ব্যবস্থা করে। যেমন- পিরামিডের মমির মডেল।
✒️প্রদর্শন: বিবর্তনের বিভিন্ন ধারায় মানবসমাজ ও সভ্যতার অগ্রগতি ঘটেছে। জাদুঘর দুর্লভ ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলি সাধারণ দর্শক পাঠক ও গবেষকদের ডিসপ্লে কেস এর সাহায্যে তুলে ধরে।
◆ জনসচেতন: ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলির মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সচেতনা বৃদ্ধি করা জাদুঘরের অন্যতম উদ্দেশ্য ও কাজ। উদাহরণ কলকাতা জাদুঘর দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জীবনীর মাধ্যমে-দেশের জনগণের মধ্যে জনসচেতনা জাগিয়ে তোলে।
গবেষনায় সাহায্য: যে কোনো মানুষের সংগ্রহ করা ঐতিহাসিক নিদর্শন জাদুঘরে সংরক্ষিত হতে পারে। সেই সব নিদর্শনগুলির প্রকৃত ইতিহাস কী তা নিয়ে গবেষনার সুযোগ করে দেওয়া জাদুঘরের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য ও কাজ।
◆ প্রকাশনা: মিউজিয়াম একটি প্রধান কাজ হলো বিভিন্ন বিষয়ে প্রকাশনার ব্যবস্থা করা। জাদুঘরে সংরক্ষিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন সম্পর্কে গবেষনা লব্ধ তথ্য, কিংবা বর্তমানকালে যথেষ্ট আলোচিত কোনো ঐতিহাসিক বিষয় ইত্যাদি নিয়ে এই প্রকাশনার ব্যবস্থা হতে পারে।
◆ জ্ঞানের প্রসার: মিউজিয়াম অন্যতম উদ্দেশ্য ও কাজ হলো সংগ্রহশালার বস্তুসামগ্রীর সাহায্যে মানুষের জ্ঞানের প্রসার ঘটানো। পাঠ্য বইয়ের পাতায় দেখা বিষয় চোখের সামনে দেখতে পেলে বিষয়টি সম্পর্কে জানার আগ্রহ ও আকর্ষণ দুই-ই বৃদ্ধি পায়।
✒️প্রাণবন্ত ইতিহাস: জাদুঘরের বা মিউজিয়াম ঐতিহাসিক উপাদানগুলিতে ইতিহাসের তাত্ত্বকতার স্থান নেই, আছে অতীত ইতিহাসের বাস্তব অস্তিত্ব। জাদুঘর এই উপাদানগুলির সাহায্যে ইতিহাসকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
✒️আনন্দদান: মিউজিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সাধারণ দর্শকদের আনন্দদান করা। দর্শকরা সবসময় গবেষকের দৃষ্টি নিয়ে জাদুঘরে আসে না। এরূপ দর্শকের কাছে জাদুঘর হলো হালকা জ্ঞান সংগ্রহের মাধ্যমে আনন্দলাভ করা।
⭐মূল্যায়ন: অতএব মিউজিয়াম বা জাদুঘর হলো অতীত স্মৃতিচিহ্ন ও বর্তমানের যোগসূত্র। তাই মিউজিয়ামে সংরক্ষিত তথ্য ব্যবহার ও বিশ্লেষণ করে মানুষ নতুন নতুন তথ্য আবিষ্কার করে, যা অতীত সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। শুধু তাই নয় ইতিহাস শিক্ষার্থীদের কল্পনা ও মননশক্তি তৈরি করতেও সাহায্য করে।
0 Comments